মোঃ তানজিত | ব্যাক্তিগত ডেস্ক | Safe News
মোমেনশাহী ইজতেমা পরিদর্শনঃ
তানজিত
২১, ২২ ও ২৩ ছিল মোমেশাহী ইজতেমা। ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল আকুয়া মারখাজ মসজিদ প্রাঙ্গণে। ফসলি মাঠে কাঁদা থাকায় মজলিশটি অবস্থানগতভাবে দুই অংশে বিভক্ত ছিল। একাংশ ছিল মারখাজ মসজিদ এর পাশে আর অপর অংশ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক এর পিছনের অংশে। দুই অংশে লাখো মুসল্লির জমায়েত ছিল এই জলসায়। [আমার ক্ষুদ্র নয়নে সঠিক লোক সংখ্যা অনুমান করা সম্ভব হয় নি।]
বৃহত্তর ময়মনসিংহের নানা প্রান্ত থেকে ইসলাম প্রিয় ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত হয়েছিলেন এই সম্মেলনে। ময়মনসিংহবাসীর পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত থেকে আরও অনেক মুসল্লি এসেছিল এই সম্মেলনে।
আমি এবারই প্রথম কোন বৃহত্তর ইসলামী সম্মেলনে যোগ দিলাম। যাওয়ার পরামর্শ ছিল বন্ধু জসীম এর। ও আমাকে ইজতেমার বেশ কয়েকদিন আগেই বলেছিল, “ইজতেমায় থাকা তো সম্ভব নাহ, তাহলে চল শুধু জুম্মার নামাজটাই আদায় করে আসি।” আমি “ইনশা আল্লাহ” বলে চালিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে শুনলাম আমার নানা ইজতেমায় যেয়ে চায়। তাই, পরদিন ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রি, বৃহস্পতিবার, সকালে জসীমকে কনফার্ম করলাম যে আমিও জুম্মায় যাব। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১ টায় বাসস্ট্যান্ড এ একত্র হই আমি, নানা আর জসীম। সেখান থেকে সি.এন.জি. চালিত যানে করে মোমেনশাহী পৌঁছে যাই। সেখানে গিয়ে আমাদের উপজেলার অংশ খুঁজে বের করলাম এবং অনেক খুঁজাখুঁজি করে জসীমদের প্রতেবেশীর সাথে শরিক হলাম। তারা জামায়াতবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেখানে যুক্ত হয়ে মুরব্বিদের বয়ান শুনলাম। জামায়াতের আমির হুজুর আমাদের বিস্কুট দিয়ে গিয়েছিলেন। আমরা বিস্কুট খেয়ে আমার ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে পানি পান করে নিলাম। সেখানে জুম্মার সালাত আদায় করে পরবর্তী বয়ান শুনে বের হয়ে কিছু খাবার খেয়ে মামার বাসায় গেলাম। সেখান থেকে আবার মাগরিব এর আগেই জলসায় পৌঁছে নামাজ আদায় করে বয়ান শুনি এবং রাত ১০টার পর এশার নামাজ আদায় করে আবার বাসায় ফিরে যাই। সেখানে রাতের খাবার খেয়ে রাত্রি যাপন করি। ফজরের নামাজ বাসার পাশের মসজিদে আদায় করে আখেরি মুনাজাতের উদ্দেশ্যে জলসায় ফিরে যাই। জলসায় বয়ান শুনে ঐ জামায়াতের সাথে নাস্তা করি। মুনাজাত হয় ১২ টায়। মুনাজের সময় লাখো মুসল্লি হয়ত তার আত্মিয়-স্বজনদের কাছে মোনাজাতের কথা পৌঁছাতে চেয়েছিল মোবাইল কলের মাধ্যমে। নেটওয়ার্ক তো আর একসাথে এত মানুষকে সেবা দিতে পারবে না। তাই, সম্ভবত কেউ ফোন কল করতে সফল হয় নি। আমিও চেষ্টা করে ফোন কল, এস.এম.এস. এ ব্যার্থ হয়েছিলাম। চেয়েছিলাম ফেসবুক পেইজ এ অডিও লাইভে মোনাজাত স্ট্রিমিং করতে... নেটওয়ার্ক এর দূর্বলতায় তাও সম্ভব হয় নি।
মোনাজাত শেষেই জহুর এর নামাজের আযান হল। আমরা অযু করতে জায়গা না পেয়ে বাসায় এসে নামাজ আদায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হই। আমার একটু তাড়া ছিল। আমার ২টায় ক্লাস ছিল। কিন্তু, বের হয়েছিলামই ২টায়। মুসল্লিদের আনাগোনায় রাস্তায় ভীড় থাকায় অনেকটা পথ হেঁটে এসে ইজি বাইকে করে একটু পথ এসে বাসে করে গন্তব্যে আসি। অতঃপর নানাকে বাড়ির পথে দিয়ে আমি যাই ক্লাসে। বন্ধুদের বলেছিলাম ৩.৫০ হলেও ক্লাসে আসব, অবশেষে ৩.৩৮ এ ক্লাসে গিয়েছিলাম। তখন ১ম ক্লাসের শেষাংশ ছিল। অতঃপর যে ক্লাসের কথা ছিল সেই ক্লাস শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের একাংশ মাঠে গিয়ে খেলা শুরু করে দেয়। পরবর্তীতে সাইফুল স্যার এসে আমরা যে তিন জন দাঁড়িয়ে ছিলাম তাদের পরীক্ষার শিডিউওল দিয়ে বিদায় দেয়। আর, আমি জয়ের সাইকেলে করে বাড়ির পথে ফিরি।
পুনঃশ্চ ইজতেমাঃ ইজতেমায় যে দিকটি আমার কাছে খারাপ লেগেছে তা হল- ভিক্ষুক গোষ্ঠি। সিটি বাইপাস-মুক্তাগাছা-জামালপুর হাইওয়ের পাশে ছিল পর্যাপ্ত ভিক্ষুক। তারা কেউ একক ছিল আবার কেউ ছিল যৌথ। তারা তাদের করুণ বাণী দিয়ে পথচারীকে আকৃষ্ট করছিল। কিন্তু, রাস্তায় তাদের উপস্থিতি যান চলাচল এবং পথচারী পারাপারে বিঘ্ন ঘটিয়ে দিয়েছিল। এবং, আরেক টি বিষয় হলঃ দোকান। হ্যাঁ, অবস্থানরত লোকদের প্রয়োজনে দোকানেরও প্রয়োজনীয়তা ছিল। কিন্তু, যেখানে কর্তৃপক্ষের নোটিশ ছিল যে, “ইজতেমার পবিত্রতা রক্ষার্থে এখানে দোকান বসা নিষেধ।” সেই লেখার নিচের দোকানগুলো খুব বিরক্তিকর ছিল।
মুসল্লীদের জন্য ময়দানে অস্থায়ি শোচাগার নির্মাণ করেন এবং অস্থায়ী পানির ট্যাংকি স্থাপন করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ এলাকা পুলিশের সি.সি. ক্যামেরার আওতাভুক্ত ছিল। মধ্যভাগে ছিল পুলিশ, র্যা ব ও ফায়ার বিগ্রেড এর কন্ট্রোল রুম। পর্যাপ্ত পরিমানে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং র্যা্ব সদস্যরাও পরিদর্শন করেছে।
এই ইজতেমা উপলক্ষে যদি বিশেষ ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করা হত তাহলে আরও সুবিধা হত মুসল্লীদের।
আখেরি মোনাজাতে বিশ্ববাসীর জন্য দোয়া করা হয়েছিল। যে সকল মুসলিম নিজের বাসভূমিতে নেই তাদের আল্লাহ যেন হেদায়েত দান করে সে জন্য মোনাজাত করা হয়।
-------- লেখালেখিতে এতটা অভ্যস্ত নই। তবুও লেখার ছোট্ট প্রয়াস। অগোছালো লেখাটি পড়ে এই সম্পর্কে গঠনমূলক মন্তব্য করলে অবশ্যই উপকৃত হব, ইনশা আল্লাহ।
এই লেখাটুকু লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছি কবি জাকির হোসেন এর লেখা “মমিসিং সফরনামা” নামক একটা লেখা থেকে।
- RJ Tanjid, 23 December, 2017.
২১, ২২ ও ২৩ ছিল মোমেশাহী ইজতেমা। ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল আকুয়া মারখাজ মসজিদ প্রাঙ্গণে। ফসলি মাঠে কাঁদা থাকায় মজলিশটি অবস্থানগতভাবে দুই অংশে বিভক্ত ছিল। একাংশ ছিল মারখাজ মসজিদ এর পাশে আর অপর অংশ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক এর পিছনের অংশে। দুই অংশে লাখো মুসল্লির জমায়েত ছিল এই জলসায়। [আমার ক্ষুদ্র নয়নে সঠিক লোক সংখ্যা অনুমান করা সম্ভব হয় নি।]
বৃহত্তর ময়মনসিংহের নানা প্রান্ত থেকে ইসলাম প্রিয় ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত হয়েছিলেন এই সম্মেলনে। ময়মনসিংহবাসীর পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত থেকে আরও অনেক মুসল্লি এসেছিল এই সম্মেলনে।
আমি এবারই প্রথম কোন বৃহত্তর ইসলামী সম্মেলনে যোগ দিলাম। যাওয়ার পরামর্শ ছিল বন্ধু জসীম এর। ও আমাকে ইজতেমার বেশ কয়েকদিন আগেই বলেছিল, “ইজতেমায় থাকা তো সম্ভব নাহ, তাহলে চল শুধু জুম্মার নামাজটাই আদায় করে আসি।” আমি “ইনশা আল্লাহ” বলে চালিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে শুনলাম আমার নানা ইজতেমায় যেয়ে চায়। তাই, পরদিন ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রি, বৃহস্পতিবার, সকালে জসীমকে কনফার্ম করলাম যে আমিও জুম্মায় যাব। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১ টায় বাসস্ট্যান্ড এ একত্র হই আমি, নানা আর জসীম। সেখান থেকে সি.এন.জি. চালিত যানে করে মোমেনশাহী পৌঁছে যাই। সেখানে গিয়ে আমাদের উপজেলার অংশ খুঁজে বের করলাম এবং অনেক খুঁজাখুঁজি করে জসীমদের প্রতেবেশীর সাথে শরিক হলাম। তারা জামায়াতবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেখানে যুক্ত হয়ে মুরব্বিদের বয়ান শুনলাম। জামায়াতের আমির হুজুর আমাদের বিস্কুট দিয়ে গিয়েছিলেন। আমরা বিস্কুট খেয়ে আমার ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে পানি পান করে নিলাম। সেখানে জুম্মার সালাত আদায় করে পরবর্তী বয়ান শুনে বের হয়ে কিছু খাবার খেয়ে মামার বাসায় গেলাম। সেখান থেকে আবার মাগরিব এর আগেই জলসায় পৌঁছে নামাজ আদায় করে বয়ান শুনি এবং রাত ১০টার পর এশার নামাজ আদায় করে আবার বাসায় ফিরে যাই। সেখানে রাতের খাবার খেয়ে রাত্রি যাপন করি। ফজরের নামাজ বাসার পাশের মসজিদে আদায় করে আখেরি মুনাজাতের উদ্দেশ্যে জলসায় ফিরে যাই। জলসায় বয়ান শুনে ঐ জামায়াতের সাথে নাস্তা করি। মুনাজাত হয় ১২ টায়। মুনাজের সময় লাখো মুসল্লি হয়ত তার আত্মিয়-স্বজনদের কাছে মোনাজাতের কথা পৌঁছাতে চেয়েছিল মোবাইল কলের মাধ্যমে। নেটওয়ার্ক তো আর একসাথে এত মানুষকে সেবা দিতে পারবে না। তাই, সম্ভবত কেউ ফোন কল করতে সফল হয় নি। আমিও চেষ্টা করে ফোন কল, এস.এম.এস. এ ব্যার্থ হয়েছিলাম। চেয়েছিলাম ফেসবুক পেইজ এ অডিও লাইভে মোনাজাত স্ট্রিমিং করতে... নেটওয়ার্ক এর দূর্বলতায় তাও সম্ভব হয় নি।
মোনাজাত শেষেই জহুর এর নামাজের আযান হল। আমরা অযু করতে জায়গা না পেয়ে বাসায় এসে নামাজ আদায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হই। আমার একটু তাড়া ছিল। আমার ২টায় ক্লাস ছিল। কিন্তু, বের হয়েছিলামই ২টায়। মুসল্লিদের আনাগোনায় রাস্তায় ভীড় থাকায় অনেকটা পথ হেঁটে এসে ইজি বাইকে করে একটু পথ এসে বাসে করে গন্তব্যে আসি। অতঃপর নানাকে বাড়ির পথে দিয়ে আমি যাই ক্লাসে। বন্ধুদের বলেছিলাম ৩.৫০ হলেও ক্লাসে আসব, অবশেষে ৩.৩৮ এ ক্লাসে গিয়েছিলাম। তখন ১ম ক্লাসের শেষাংশ ছিল। অতঃপর যে ক্লাসের কথা ছিল সেই ক্লাস শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের একাংশ মাঠে গিয়ে খেলা শুরু করে দেয়। পরবর্তীতে সাইফুল স্যার এসে আমরা যে তিন জন দাঁড়িয়ে ছিলাম তাদের পরীক্ষার শিডিউওল দিয়ে বিদায় দেয়। আর, আমি জয়ের সাইকেলে করে বাড়ির পথে ফিরি।
পুনঃশ্চ ইজতেমাঃ ইজতেমায় যে দিকটি আমার কাছে খারাপ লেগেছে তা হল- ভিক্ষুক গোষ্ঠি। সিটি বাইপাস-মুক্তাগাছা-জামালপুর হাইওয়ের পাশে ছিল পর্যাপ্ত ভিক্ষুক। তারা কেউ একক ছিল আবার কেউ ছিল যৌথ। তারা তাদের করুণ বাণী দিয়ে পথচারীকে আকৃষ্ট করছিল। কিন্তু, রাস্তায় তাদের উপস্থিতি যান চলাচল এবং পথচারী পারাপারে বিঘ্ন ঘটিয়ে দিয়েছিল। এবং, আরেক টি বিষয় হলঃ দোকান। হ্যাঁ, অবস্থানরত লোকদের প্রয়োজনে দোকানেরও প্রয়োজনীয়তা ছিল। কিন্তু, যেখানে কর্তৃপক্ষের নোটিশ ছিল যে, “ইজতেমার পবিত্রতা রক্ষার্থে এখানে দোকান বসা নিষেধ।” সেই লেখার নিচের দোকানগুলো খুব বিরক্তিকর ছিল।
মুসল্লীদের জন্য ময়দানে অস্থায়ি শোচাগার নির্মাণ করেন এবং অস্থায়ী পানির ট্যাংকি স্থাপন করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ এলাকা পুলিশের সি.সি. ক্যামেরার আওতাভুক্ত ছিল। মধ্যভাগে ছিল পুলিশ, র্যা ব ও ফায়ার বিগ্রেড এর কন্ট্রোল রুম। পর্যাপ্ত পরিমানে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং র্যা্ব সদস্যরাও পরিদর্শন করেছে।
এই ইজতেমা উপলক্ষে যদি বিশেষ ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করা হত তাহলে আরও সুবিধা হত মুসল্লীদের।
আখেরি মোনাজাতে বিশ্ববাসীর জন্য দোয়া করা হয়েছিল। যে সকল মুসলিম নিজের বাসভূমিতে নেই তাদের আল্লাহ যেন হেদায়েত দান করে সে জন্য মোনাজাত করা হয়।
-------- লেখালেখিতে এতটা অভ্যস্ত নই। তবুও লেখার ছোট্ট প্রয়াস। অগোছালো লেখাটি পড়ে এই সম্পর্কে গঠনমূলক মন্তব্য করলে অবশ্যই উপকৃত হব, ইনশা আল্লাহ।
এই লেখাটুকু লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছি কবি জাকির হোসেন এর লেখা “মমিসিং সফরনামা” নামক একটা লেখা থেকে।
- RJ Tanjid, 23 December, 2017.


0 মন্তব্য(গুলি):