অপারেশন সার্চলাইট
২৫শে মার্চ ১৯৭১
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী
সেনাবাহিনী বাঙালিদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা করা শুরু করে। এই গণহত্যা ছিল
পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকদের আদেশে পরিচালিত একটি অপারেশন বা পরিকল্পিত
গণহত্যা। তাদের লক্ষ্যই ছিল ১৯৭১ এর মার্চ ও এর পূর্ববর্তী সময়ে বাঙালি
জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করা।
সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী ২৬শে মার্চ এর মধ্যে
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এর সব বড় বড় শহর দখল করে
নেয়া এবং রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। এই গণহত্যা
বাঙালিদের ক্রুদ্ধ করে তোলে, যার ফলাফলে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে
ঘোষিত হয়। সেদিনের সেই গণহত্যা ১৯৭১ এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত
ঘটায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ
কমান্ড "মিত্র বাহিনী" এর কাছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিনা শর্তে
আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
অপারেশন শুরু হয় ঢাকায় ২৫শে মার্চ রাতের
শেষ প্রহরে এবং অন্যান্য গ্যারিসনকে ফোন কলের মাধ্যমে তাদের অপারেশন শুরুর
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করার জন্য সতর্ক করে দেয়া
হয়। ঢাকার সৈন্যদের কমান্ডে ছিলেন রাও ফরমান আলি এবং অন্যান্য সব স্থানের
সৈন্যদের কমান্ডে ছিলেন জেনারেল খাদেম। জেনারেল টিক্কা এবং তার কর্মকর্তারা
৩১তম কমান্ড সেন্টারের সব কিছু তদারকি করা এবং ১৪তম ডিভিশনের কর্মকর্তাদের
সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এত সব অমানুষিক পরিকল্পনার পরিণামে ২৫শে
মার্চের সেই কালরাতে বাঙালি হারিয়েছে অনেক তাজা প্রাণ। কিন্তু
মুক্তিযোদ্ধারা হার মানেননি। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে অবশেষে শত্রু মুক্ত
করেছেন দেশকে। আর সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া বাংলাদেশের বুকে উড়িয়েছেন লাল-সবুজ
পতাকা।

0 মন্তব্য(গুলি):