জর্জ গর্ডন বায়রন,
ষষ্ঠ ব্যারন বায়রন সবার কাছে ‘লর্ড বায়রন’ নামেই ছিলেন পরিচিত। ব্রিটিশ
কাব্যে রোম্যান্টিসিজম এর প্রচলনের অন্যতম মুখ্য ভূমিকায়, তিনি ছিলেন
অন্যতম।
তাঁকে খ্রিস্টধর্ম মতে সেন্ট ম্যারিলেবন
প্যারিশ চার্চে তাঁর নানা গাইটের জর্জ গর্ডনের নামানুসারে ‘জর্জ গর্ডন
বায়রন’ নাম দেয়া হয়। তাঁর নানা ছিলেন স্কটল্যান্ডের জেমস। বায়রনের বাবা
স্কটল্যান্ডে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর এস্টেট পাওয়ার উদ্দেশ্যে তার নামের
শেষে ‘গর্ডন’ যুক্ত করেন এবং তাঁর নাম হয় জন বায়রন গর্ডন। জর্জ বায়রনও
কিছু সময়ের জন্য এই বংশনাম ব্যবহার করে এবং এবার্ডিনে স্কুলে জর্জ বায়রন
গর্ডন নামে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। মাত্র দশ বছর বয়সে সে ইংরেজ ‘Barony of
Byron of Rochdale’ এর উত্তরাধিকার পান এবং হয়ে যান লর্ড বায়রন। এর ফলে
তিনি তাঁর দুইটি বংশ নাম বাদ দিয়ে দেন।
১৮২২ সালে যখন বায়রনের শাশুড়ি জুডিথ
নোয়েল মারা যান, তখন তার উইলে বায়রনের বংশনাম নোয়েল এ পরিবর্তনের
প্রয়োজন হয় তার শ্বাশুরির অর্ধেক এস্টেটের উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য। তাই
মাঝেমধ্যে লর্ড নোয়েল বায়রন হিসাবেও উল্লেখ করা হতো যেন, নোয়েল তার
টাইটেলের অংশ। একইভাবে লর্ড বায়রনের স্ত্রীকেও মাঝে মধ্যে লেডি নোয়েল
বায়রন নামে ডাকা হতো! লেডি বায়রন অবশেষে Barony of Wentworth এর
উত্তরাধিকারিণী হন এবং তিনি হন লেডি ওয়েন্টওয়ার্থ।
বায়রনের বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ
বর্ণনামূলক কিছু কবিতা। ‘Don Juan’ এবং ‘Childe Harold's Pilgrimage’। আর
ছোট গীতি কবিতার মধ্যে রয়েছে ‘She Walks in Beauty’। তিনি ছিলেন বিখ্যাত ও
প্রভাবশালী ব্রিটিশ কবি। সে যুগে তাঁর লেখার অনুরাগী ছিলেন অনেক। সে
গ্রীকদের স্বাধীনতা যুদ্ধে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যান, যার
জন্য গ্রীকরা তাকে ‘জাতীয় বীর’ হিসাবে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন।
মাত্র ৩৬ বছর বয়সে আজকের এই দিনে ব্রিটিশ এই কবি গ্রীসে থাকা অবস্থায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


0 মন্তব্য(গুলি):