Monday, January 8, 2018

ট্রাম্প কি মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন - সোহেল রানা | Safe News



"ট্রাম্প কি মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন? | Safe News


অাসছে বিশে জানুয়ারি অামেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্পের বর্ষপূর্তি। অংকের হিসেবে সময়টাকে খুব বেশি বলার সুযোগ নেই,কিন্তু এসময়েই নানান পাগলাটে পদক্ষেপ অার বেফাঁস মন্তব্য করে গোটা বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি অার কূটনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যু্ক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ প্রক্রিয়া জটিল করে তুলেছেন।জাতিসংঘের বাজেটে হাত দিয়েছেন; সংস্থাটিতে নিজেদের অনুদান কমিয়ে দিচ্ছেন। পাকিস্তানে অার্থিক ও সামরিক সাহায্য স্থগিত করেছেন, ফিলিস্তিনে অনুদান কমাচ্ছেন, কয়েক দফায় রাশিয়ার সাত শতাধিক কূটনীতিক বহিষ্কার করেছেন, উত্তর কোরিয়ার ভুখন্ডের একেবারে কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে মিলে বড় ধরনের বিমান মহড়া চালিয়েছেন,প্রতিবেশী মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনার জন্ম দিয়ে একের পর এক স্টাফদের সরিয়েছেন।
এবার কিন্তু এই ট্রাম্পকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে সাংবাদিক উলফের একটি বই। লেখকের পুরো নাম মাইকেল উলফ। তার বইটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে বেস্ট সেলারের তালিকায়। সাংবাদিক উলফ দাবি করেছেন এই বই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি শেষ করে দেবে! বড়ই কঠিন কথা। ট্রাম্প অবশ্য টুইট বন্যায় নিজেকে ডিফেন্ড করে যাচ্ছেন,এমনকি নিজের অাইডিওলজিকেল ফাদার ব্যাননকে পর্যন্ত কুকুর বলতে পিছু হটেন নি ।
সারা বিশ্বেই ঝড় তুলেছে উলফের ' ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি,ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ' নামের বইটি। এই বইয়ের তথ্য এখন চমকপ্রদ সংবাদের খোরাক। বেরিয়ে অাসছে অাজব অাজব সব তথ্য। অামাজন ডট কম পযর্ন্ত তার ওয়েবসাইট থেকে বইটির রিভিউ সরাতে বাধ্য হয়েছে।


বইটিতে দাবি করা হয়েছে ট্রাম্প মানসিক রোগে ভুগছেন। হোয়াইট হাউজের ভেতরকার স্টাফদের জবানিতে লেখক বলেছেন, ট্রাম্প যেকোন সময়ে মানসিক ভারসাম্য হারাতে পারেন। জবাবে টুইট বার্তায় ট্রাম্পকে বলতে হয়েছে, 'I am mentally stable and like a smart genius'. এমনকি স্থানীয় সময় শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের মানসিক সুস্থতার পক্ষে অারেক দফা সাফাই গাইতে হয়েছে ট্রাম্পকে। ট্রাম্প বলেছেন, তার শিক্ষা,তার মিডিয়া খ্যাতি অার ২০১৬ সালে যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়লাভ করলেন, এগুলোই প্রমাণ করে তিনি রাষ্ট্র চালাতে যোগ্যদের চেয়েও যোগ্য! ক্যাম্প ডেভিডের ঐ সাংবাদিক সম্মেলনে উলফকে 'প্রতারক' অাখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি এও বলেছেন, "এই লোক, যে কিনা অামাকে চিনেই না, জানেই না,তিনি নাকি হোয়াইট হাইজে তিন ঘন্টা ব্যাপী অামার সাক্ষাতকার নিয়েছেন,এটা তার কল্পনা হয়তো,অামাদের কোনও সাক্ষাত হয়নি।"
লেখক বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, নিউইয়র্ক টাইমস এর বেস্ট সেলারের তালিকায় বইটির জায়গা করে নেওয়াই প্রমাণ করে এই বই হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প প্রশাসনের সমাপ্তি টানবে। তিনি বলছেন, ট্রাম্পের প্রকৃত স্বরূপটাই এই বই মানুষের কাছে তুলে ধরেছে। হোয়াইট হাউজ থেকে সরিয়ে দেয়া ট্রাম্পের অাধ্যাত্মিক গুরু স্টিভ ব্যাননের বরাত দিয়ে বইটিতে বলা হয়েছে,প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশ চালাবার ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই। জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'চাকরি হারিয়ে মাথা বিগড়ে গেছে ব্যাননের, তিনি কুকুরের মত অাচরণ করছেন!'
বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে, ট্রাম্প সহ তার সাথের অন্যরা ভাবেন নি ট্রাম্প নির্বাচনে জিতবেন। নির্বাচনের রাতে তারা ধরেই নিয়েছেন হিলারিই জিতে যাচ্ছেন। কিন্তু ট্রাম্প যখন জয়ের দিকে এগোতে থাকলেন,তাতে সব চেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প কারন তিনি প্রকৃত অর্থেই চাননি ফার্স্টলেডি হতে!!
লেখক অারো লিখেছেন,হোয়াইট হাউজের প্রত্যেকটা মানুষ ট্রাম্পকে শিশু সুলভ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। কখনো ১১ বছরের,কখনো ছয় বছরের অাবার কখনো বা দুই বছরের শিশুর মতই ট্রাম্পকে অাচরণ করতে দেখেন হোয়াইট হাউজের স্টাফরা। এতগুলো মাসের পর তারা এটাই বলেছেন, No, this man cannot function in this job.
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার লেখক উলফকে বলেন, ইসরায়েল ইস্যৃুতে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ব্যানন এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কিসিঞ্জার এটাকে বর্ণনা করেছেন ইহুদি- অইহুদি লড়াই হিসেবে। ট্রাম্প কুশনারকে ইসরায়েল ইস্যুতে দেখভাল করতে বলেছিলেন,তাকে ইসরায়েলের গ্রেট প্রটেক্টর হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি; যাতে অসন্তুষ্ট ছিলেন ব্যানন। ইহুদি কুশনারের যেহেতু এ ধরনের অভিজ্ঞতা ছিলনা,তাই তাকে দুর্বল ও অদক্ষ রুল প্লে করতে দেখা যায়। সম্প্রতি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প। ধারণা করা হয়,এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন ট্রাম্পের এই ইহুদি জামাতা।
হিলারিরা একটা ইস্যু দাঁড় করাতে পারতেন কিন্তু এখনো ডেমোক্রেটদের নীরবতা রহস্যজনক। ট্রাম্প যেভাবে একের পর এর পাগলাটে সিদ্ধান্ত নিয়ে এমেরিকার মানচিত্র দিন দিন ছোট করে অানছেন, তাতে পুতিনদেরই পকেট ভারী হচ্ছে। যুক্তরাজ্য,তুরস্ক- পাকিস্তানের মত মিত্র দেশগুলি ট্রাম্পের খোলাবাজার নীতির মুখে পড়ে রুষ্ট হয়ে বসে অাছে। গত একবছরে ট্রাম্প যা যা করলেন,তাতে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া,অাফ্রিকা এমনকি উত্তর অামেরিকাতেও যুক্তরাষ্ট্রর ঐতিহাসিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে । ভারত মহাসাগর,লোহিত সাগর ও অাফ্রিকায় চীন ও তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্র তুরস্ক, রাশিয়া- ইরান বলয়ে যোগ দিয়েছে। পাকিস্তান তার পুরনো মিত্র চীনের দিকে একচেটিয়াভাবে ঝুঁকে পড়েছে।ট্রাম্প যদি তার এই খোলাবাজার নীতি অব্যাহত রাখেন,তাহলে তার অামলেই হয়ত পরাশক্তির তালিকা টা একটু এদিক- সেদিক হবে। তারপরও কি হিলারিরা চুপ করে থাকবেন?
সোহেল রানা

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 মন্তব্য(গুলি):