Saturday, March 17, 2018

আজ ১৭ই মার্চ - শুভ জন্মদিন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি | Safe News

আজ  ১৭ই মার্চ- স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৮৯তম জন্মদিন। জন্মদিনের এই লগ্নে বাংগালী জাতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরন করছে বাঙালি জাতির  অবিসংবাদিত নেতা ক্ষনজন্মা এই মহাপুরুষকে।


১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার  টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমান স্কুল  জীবনেই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পাকিস্থানের স্বাধীনতার অব্যহিত পরে  ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি শেখ মুজিবের নেতৃত্বে মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনের মধ্য দিয়ে বাংগালীর আপোষহীন   নেতার ভুমিকায় অবতীর্ন হয়ে তিনি বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে  নতুন মাত্রা যোগ করে। ন্যায়ের পক্ষে অবিচল আপোষহীন শেখ মুজিব  ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও মৌলিক গণতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন, ৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ -এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির আশা আকাংক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠে। তাই বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে এই মহান নেতার  নাম চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে প্রতিটি বাংগালীর অন্তরে। বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় তিনি ১৫ বছর কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন। ৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্ত করে আনে এই অকুতোভয় নেতাকে। কারামুক্তির পর ঢাকার এক বিশাল সমাবেশে তাকে ভূষিত করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার  সমাবেশের  এক ঐতিহাসিক জনসভায় ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ থেকে ঘোষণা দেন। তিনি ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ পাকিস্তানি শত্র"র মোকাবিলা করার জন্য বাঙালি জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বানেই সেদিন দেশবাসী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তু'তি শুরু করে।এরপর ৭১-এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা ঢাকাসহ সারাদেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে বঙ্গবন্ধু তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে ইপিআর এর ওয়ার্লেস যোগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করলে শুরু হয় সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের অপরাধে পাকিস্থানে তার গোপন বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পরাজিত পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এই চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি সে দেশের কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। লন্ডন হয়ে ১০ জানুযারি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির সংগ্রামের এই বিজয়ী বীর ভূষিত হন ‘জাতির জনক’ উপাধিতে। ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুস্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ’৭৫-এর ১৫ আগষ্ট নিজ বাসভবনে ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি।স্বাধীণতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জীবনাবসান হয়। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় ভূমিকার জন্য বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৮৯তম জন্মদিনের এই ক্ষনে সেইফ নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 মন্তব্য(গুলি):