Friday, April 20, 2018

আজ আডলফ হিটলার-এর জন্মবার্ষিকী

আজ আডলফ হিটলার-এর জন্মবার্ষিকী 

 আমি মানুষকে সবসময় ভালবাসতে না বলে যুদ্ধ করতে বলি। কারণ যুদ্ধে যেকেউ বাঁচবে না হয় মরবে। কিন্তু ভালবাসাতে না পারবে বাঁচতে, না পারবে মরতে।
২০শে এপ্রিল ১৮৮৯
অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ আডলফ হিটলার ২০শে এপ্রিল ১৮৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
পারিবারিক কারণেই বাবাকে তিনি খুব একটা পছন্দ করতেন না, বরং ভয় পেতেন। কিন্তু মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কোন কমতি ছিল না। ১৯০৩ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার রেখে যাওয়া পেনশন ও সঞ্চয়ের অর্থ দিয়েই তাদের সংসার কোনমতে চলতে থাকে। অনেক ভোগান্তির পর ১৯০৭ সালে মাতাও মারা যান। হিটলার নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পড়াশোনায় বিশেষ সুবিধাও করতে পারেননি। ভিয়েনায় চলে গিয়েও চিত্রশিল্পী হবার স্বপ্ন নিয়ে আবার লিন্‌ৎসে ফিরে আসেন। আবার ভিয়েনায় যান। তিনি শিল্পীই হতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যে অস্ট্রিয়ার "একাডেমি অফ ফাইন আর্টস"-এ ভর্তি পরীক্ষা দেন। কিন্তু সুযোগ পাননি।
পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। ভাইমার প্রজাতন্ত্রে তিনি নাৎসি পার্টির নেতৃত্ব লাভ করেন। অভ্যুত্থান করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে জেল খাটতে হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, ইহুদি বিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতা ছড়াতে থাকেন সর্বত্র। আর এভাবেই এক সময় হয়ে উঠেন জনপ্রিয় নেতা। হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফিউরার ছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে জার্মান নেতৃত্বাধীন শক্তি মহাদেশীয় ইউরোপ এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নেয়। যদিও ১৯৪৫ সালের মধ্যে জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। হিটলারের রাজ্য জয় ও বর্ণবাদী আগ্রাসনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে সে সময় প্রাণ হারাতে হয়। ৬০ লক্ষ ইহুদিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাও করা হয়। ইহুদি নিধনের এই ঘটনা ইতিহাসে ‘হলোকস্ট’ নামে পরিচিত।
সৈনিক ছাড়াও তাঁর আরেক পরিচয় হল তিনি একজন লেখক। তাঁর লেখা বইয়ের নাম “মাইন কাম্ফ”। জীবনে বেশ কয়েকবছর তিনি একাকী ও বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করেছেন। এ সময় তিনি একাকীত্ব, গোপনীয়তা, ছন্নছাড়া জীবনযাপনকেই তাঁর সঙ্গী করে নেন। আর এভাবেই একটা সময় হয়ে ওঠেন হিটলার!

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 মন্তব্য(গুলি):