সমর্থক দেশের পতাকা ওড়ানোর উম্মাদনায় লঙ্গিত হছে বাংলাদেশ পতাকা বিধিমালা
শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল – ২০১৮।
আর এই উপলক্ষে দেশের অসংখ্য খেলাপ্রেমী মেতে উঠবে তাদের পছন্দের দল নিয়ে। তৈরী
করবে সেই দেশের জাতীয় পতাকা আর কিনবে সেই দলের নমুনা জার্সি। জমি বিক্রি করে দীর্ঘ
ভিনদেশী পতাকা বানানোর ঘটনাও এই বাংলাদেশেই আছে। কিন্তু, ক’জন মানছে বাংলাদেশ পতাকা বিধিমালা? হয়ত এই বিধির কথা অনেকের সম্পূর্ণ অজানা।
দেখুনঃ ২০১৮
বিশ্বকাপের সূচি
বাংলাদেশ
পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ এর বিধি ৯(৪) অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরে কোনো ভবনে বা
যানবাহনে কোনো বিদেশী পতাকা উত্তোলনের অনুমতি সাধারন নাগরিকদের আদৌ নাই।
সুতরাং
এ ক্ষেত্রে আমরা পতাকা আইনের লঙ্ঘন করে চলছি। বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশী পতাকা ওড়ানোর
অনুমতি আইন দিয়েছে সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ভিনদেশী পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি
বাংলাদেশের পতাকা সম্মানের সঙ্গে ওড়াতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি ভিনদেশী
পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হচ্ছে না। আবার কেউ কেউ দায় থেকে বাঁচতে
ভিনদেশী পতাকার ওপরে কিংবা পাশে বাংলাদেশের পতাকা ওড়াচ্ছেন বটে, কিন্তু সেখানে ও
দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের পতাকাটির সাইজ ভিনদেশটির থেকে আকারে ছোট।
বাংলাদেশ
পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ এর বিধি ৭(৭) অনুযায়ী ‘বাংলাদেশের পতাকা’র
উপরে অন্য কোন পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাইবে না। আমরা হয়ত আমাদের দেশের
পতাকার উপর সমর্থক দেশের পতাকা উত্তোলন করি না ঠিকই তবে সমর্থক দেশের বৃহতাকার
পতাকার উপর স্বদেশের এক ক্ষুদ্র পতাকা তুলে রাখি। এই বিধিমালারই ৭(১১) বিধি অনুযায়ী
দুই বা ততোধিক দেশের পতাকা প্রদর্শিত হলে প্রতিটি পতাকা পৃথক পৃথক দণ্ডে উত্তোলন
করতে হইবে এবং পতাকাসমূহ প্রায় সমান আয়তনের হতে হইবে। আমাদের দেশের সমর্থকদের
অধিকাংশ উত্তোলিত পতাকাই একই দন্ডে থাকে আর সমর্থক দেশের পতাকার তুলনায় অনেকসময়ই
দেশের পতাকা ক্ষুদ্রাকৃতির হয়।
এভাবেই আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের পতাকার অবমাননা
করে চলেছি যা নৈতিকভাবে অগ্রহনযোগ্য এবং আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ফুটবল
বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানোর উম্মাদনা বাংলাদেশে বহু দিনের পুরনো। কিন্তু
পতাকা আইন অনুসারে এ ধরনের আচরণ অগ্রহনযোগ্য। এরক ম
অবস্হায় নাগরিকদের আবেগ নিয়ন্ত্রন এবং সরকারের তরফ থেকে কিছু শিথিলতা, কিছু
কঠোরতার সমন্বয় ঘটানো না হইলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
© Safe News



0 মন্তব্য(গুলি):