Tuesday, May 29, 2018

শুভ জন্মদিন, হুমায়ুন

 
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি ১৯৫২ সালের ২৯শে মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম নুরুল ইসলাম এবং মায়ের নাম ফরিদা ইসলাম। বার নামের সঙ্গে মিল রেখেই তার নাম রাখা হয়েছিল হুমায়ূন কামরুল ইসলাম। কিন্তু প্রথাবিরোধী ফরীদি নামের শেষে বাবার নাম বাদ দিয়ে যুক্ত করলেন মায়ের নাম। ফরিদার ছেলে ফরীদি। মজার বিষয় হচ্ছে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি ফরীদি নামটিতেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
ইমদাদুল হক মিলন জিজ্ঞেস করেছিলেন- ফরীদি বানানতো ফরিদী হবার কথা। তুমি 'র' এ দীর্ঘ ই-কার কেন দাও?
ফরীদির সোজাসাপ্টা জবাব- লিখতে সুবিধা তাই। :)
তিনি একইসাথে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন।
চার ভাই-বোনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। তিনি ১৯৬৫ সালে পিতার চাকরীর সুবাদে মাদারিপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এক সময় মাদারিপুর থেকেই নাট্য জগতে প্রবেশ করে। তাঁর নাট্যঙ্গনের গুরু ছিলেন বাশার মাহমুদ। নাট্যকার বাশার মাহমুদের শিল্পী নাট্যগোষ্ঠী নামের একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে কল্যাণ মিত্রের 'ত্রিরত্ন' নাটকে ‘রত্ন’ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয় জীবনে সর্বপ্রথম দর্শকদের সামনে অভিনয় করেন হুমায়ুন ফরীদি। এরপর এই সংগঠনের সদস্য হয় 'টাকা আনা পাই’,  'দায়ী কে', 'সমাপ্তি', 'অবিচার' সহ ৬টি মঞ্চ নাটকে অংশ নেন। অবশেষে ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর পিতার চাকরীর সুবাদে চাঁদপুর সরকারি কলেজ এ পড়াশোনা করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।
১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবের তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলত এই উৎসবের মাধ্যমেই তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৯০-এর দশকে হুমায়ুন ফরীদি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। সেখানেও তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত সংশপ্তক নাটকে 'কানকাটা রমজান' চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন। তাঁর অভিনীত মঞ্চ নাটকের মধ্যে রয়েছে- ত্রিরত্ন (প্রথম অভিনয়), কিত্তনখোলা, মুন্তাসির ফ্যান্টাসি, কিরামত মঙ্গল, ধূর্ত উই ইত্যাদি।
এছাড়া বিখ্যাত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে- নিখোঁজ সংবাদ, হঠাৎ একদিন, পাথর সময়, সংশপ্তক, কোথাও কেউ নেই। এছাড়া বীর পুরুষ, দুর্জয়, শাসন, মায়ের অধিকার, জয়যাত্রা, ভণ্ড, ব্যাচেলর নামের চলচ্চিত্রতেও তিনি অভিনয় করেছেন। তিনি ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরন করেন।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 মন্তব্য(গুলি):